তরমুজের ৭টি উপকারিতা – অবাক করা স্বাস্থ্য গুণ

তরমুজ আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় একটি ফল। সুস্বাদু হবার কারনে সবারই পছন্দ এটি। তরমুজ এর স্বাস্থ্য সুবিধার মধ্যে কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ অন্যতম। গরমে একফালি তরমুজ এনে দিতে পারে প্রশান্তি। আজ এই আর্টিকেলে আলোচনা করব তরমুজের ৭ টি স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে

বাংলাদেশের মাটিতে তরমুজের চাষবাস হলেও তরমুজের আদি নিবাস কিন্তু আমাদের দেশে না। তরমুজ দক্ষিণ আফ্রিকার ফল, মিশরের নীল নদের আশেপাশের অঞ্চলেও প্রাচীনকাল থেকে তরমুজের চাষ হত। আজকাল সারাবিশ্বে প্রায় সব দেশেই ব্যাপকহারে তরমুজের উৎপাদন হয়।

তরমুজ এর ভেতর থাকে প্রচুর পুষ্টি, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, এবং জৈব যৌগ। এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ৬, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার, প্রোটিন এবং প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম রয়েছে যা মানব দেহে প্রতিদিন প্রয়োজন।

গ্রীষ্মের দিনে একফালি মিষ্টি ঠাণ্ডা তরমুজের চেয়ে আর কোন বডি রিফ্রেশিং পানীয় নেই। তরমুজের এমন অনেক গুণের মধ্যে অন্যতম ৭ টি উপকারী দিক নিচে তুলে ধরা হলো।

তরমুজ এর স্বাস্থ্য উপকারিতাঃ

১। হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করে

তরমুজ অত্যন্ত কার্যকরীভাবে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা ও রক্তচাপ কমায়। তরমুজের ভেতর প্রচুর পানি ও লবন থাকে যা আমাদের শরীরে প্রবেশ করে শরীর থেকে ক্ষতিকারক পদার্থকে ঘাম আকারে বের করে আনে। ফলে শরীর শীতল থাকে ও হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা কমে আসে।

২। ক্যান্সার প্রতিরোধী

সাম্প্রতিক সময়ে তরমুজের এই অসাধারণ দিকটা জানা গিয়েছে। তরমুজে আছে লাইকোফিন নামক একটি ক্যারোটিনোয়েড ফায়োটুনট্রেণ্ট যৌগ যা কিনা ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা যায় লাইকোফিন এর প্রভাবে প্রোস্টেট ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, ফুসফুস ক্যান্সার এবং এন্ডোমেট্রিক ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

৩। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

কম চিনি আর অল্প ক্যালোরির খাবার খাওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীরা অল্পতেই ক্ষুধার্ত হয়ে পরেন। অল্প খাবার খাওয়ার কারণে প্রায় সময় শরীর দুর্বল থাকে। তরমুজ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে খুবই ভালো মানের খাবার। মিস্টি কিন্তু চিনি কম আবার অনেক বড় এক ফালি তরমুজের মধ্যে বেশীরভাগই পানি তাই পেট ভরলেও বেশী ক্যালরী ইনটেক হয় না। তরমুজের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ যেমন পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম শরীরের ইনসুলিনের যথাযথ কার্যকারিতায় সহায়তা করে যা ব্লাড সুগার কমিয়ে দেয়।

৪। কিডনি ভালো রাখে

তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম থাকে যা কিডনি পরিস্কার রাখে। রক্ত থেকে উইরিক এসিড কমায় ফলে কিডনি ড্যামেজ হবার আশঙ্কা কমে যায়। তরমুজের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের কারনে কিডনি সতেজ ও সবল থাকে যা ত্বক ভাজ পরা রোধ করে।

৫। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে

পটাসিয়াম আর ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে আর এই দুটি উপাদানই তরমুজে অতিমাত্রায় উপস্থিত রয়েছে।

৬। হার্ট এর সুরক্ষা

লাইকোফিন এর কথা আগেই বলা হয়েছে, এটি শুধু ক্যানসার প্রতিরোধীই নয় হার্টের কার্ডিয়াক ফাংশনকেও ভালো অবস্থায় রাখতে সহায়তা করে। বয়স বাড়ার কারনে হার্টে যে ক্ষতি হয় তরমুজ খেলে তার অনেকটাই সেরে ওঠে।

৭। চোক্ষের যত্ন

তরমুজে আছে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন সি, লিটিন, এবং জ্যাকসিনটিন যার প্রত্যেকটি উপাদান আমাদের চোখের জন্যে অত্যন্ত উপকারী। চোখের ভেতরের নার্ভ বয়সের সাথে শুকিয়ে যাওয়া রোধ করে চোক্ষকে কার্যকার রাখে।

তরমুজ নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা, ভালো লাগা খারাপ লাগা বা যে কোন কিছু শেয়ার করুন আমাদের সাথে কমেন্টে। ধন্যবাদ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *